মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:৪৬ অপরাহ্ন
মো.আরিফুল ইসলাম,বাউফল (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি:
পটুয়াখালীর বাউফল নার্সিং ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার চার বছর পার হলেও এখনো চালু হয়নি ইন্টিগ্রেটেড বাজেট অ্যান্ড অ্যাকাউন্টিং সিস্টেম (আইবাস)।
ফলে সরকারি বরাদ্দ ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে জটিলতা তৈরি হয়। তৈরি হয়েছে শিক্ষক সংকট, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং শিক্ষা উপকরণসহ নানা সংকটে পড়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
জানা গেছে, ২০২৩ সালে বাউফল সরকারী নার্সিং ইনস্টিটিউটের যাত্রা শুরু হয়। শুরুতে পটুয়াখালী নার্সিং কলেজ থেকে ডেপুটেশনে একজন অধ্যক্ষ ও একজন শিক্ষককে সেখানে দায়িত্ব দেওয়া হয়।
বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটিতে তিনটি ব্যাচের শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত থাকলেও মাত্র একজন শিক্ষকের উপর নির্ভর করেই চালাতে হচ্ছে পাঠদান কার্যক্রম। অতিথি শিক্ষক দিয়ে বেশ কিছুদিন প্রতিষ্ঠানটি সচল রাখার চেষ্টা করে যাচ্ছেন অধ্যক্ষ মরিয়ম বেগম।
অতিথি শিক্ষকই একমাত্র ভরসা। কিন্তু খন্ডকালীন ওই সকল শিক্ষকদের কোন ধরনের সম্মানী প্রদান করতে পারছেন না অধ্যক্ষ।
ফলে অতিথিরাও আগ্রহ হাড়াচ্ছেন। প্রতিষ্ঠান সূত্রে জানা যায়, ইনস্টিটিউটটিতে ৯ থেকে ১২টি শিক্ষক পদ শূন্য রয়েছে।
এছাড়া পরিচ্ছন্নতাকর্মী, দারোয়ান, সিকিউরিটি গার্ড, খালা, আয়া ও বাবুর্চিসহ চতুর্থ শ্রেণির সকল পদ দীর্ঘদিন ধরে শূণ্য পড়ে আছে।
এদিকে অবকাঠামোগত দিক থেকেও রয়েছে নানা সীমাবদ্ধতা। একাডেমিক ভবনে কোনো বাথরুম নেই।
বিশুদ্ধ পানির সংকট রয়েছে এবং পর্যাপ্ত ক্লাসরুম না থাকায় শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে।
এছাড়া শিক্ষার্থীদের জন্য ৭টি ল্যাব থাকার কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত একটি ল্যাবও স্থাপন করা হয়নি।
পাশাপাশি সিলেবাস ও কারিকুলাম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় একাডেমিক্যাল বইপত্র ফ্রি পাওয়ার কথা সকল শিক্ষার্থীর কিন্তু কোন ধরনের বই পাচ্ছেন না শিক্ষার্থীরা।
এছাড়া বর্তমানে তিনটি ব্যাচ চলমান থাকলেও প্রতিষ্ঠানটি এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের সরকারি বরাদ্দ পায়নি। সকল শিক্ষার্থীদের ১৮-২৫টাকা শিক্ষাবৃত্তি পাওয়ার কথা।
আইবাস না থাকার কারণে সকল শিক্ষাবৃত্তি বঞ্চিত রয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
অপরদিকে বিএনএমসি কৃর্তৃক মিক্ষার্থীদের চুড়ান্ত পরিক্ষা ৪০কিলোমিটার দুরে জেলা সদর পটুয়াখালী নাসিং ইনস্টিটিউটে গিয়ে অংশগ্রহণ করতে হয়।
যা অত্যান্ত অমানবিক এবং শিক্ষার্থীদের জন্য ব্যয়বহুল। ডিপ্লোমা ইন নাসিং সাইন্স এন্ড মিডওয়েফারী প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী সুরাইয়া আক্তার বলেন, লাইব্রেরীতে কোন ধরনের বই নেই। বই সংগ্রহ করতে নানা ঝামেলা পোহাতে হচ্ছে।
২য় বর্ষের শিক্ষার্থী ফাইমা আক্তার বলেন, ‘আমাদের ইনস্টিটিউটে ২/৩জন বাদে সকলেই নারী শিক্ষার্থী কিন্তু অনেক সমস্যা আমদের এখানে।
বড় সমস্যা হচ্ছে আমাদেরকে পটুয়াখালী জেলা সদর নাসিং ইনস্টিটিউটে গিয়ে সকল পরিক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হয়। এটি আমাদের জন্য অনেক কষ্টকর বিষয় এবং ব্যায়বহুল। প্রতিদিন পরিক্ষা শেষ করে বাউফল চলে আসতে হয়।
অনেকদিন পরিক্ষা থাকে। অনেক টাকা ব্যায় হয় যাতায়াত করতে। ৩য় বর্ষের শিক্ষার্থী তানভির আহমেদ বলেন, ‘এখানে ছেলেদের আবাসন নেই।
বাহিরে থাকতে হয় যা আমাদের শিক্ষার্থীদের জন্য ব্যয় বেড়ে যায়। এছাড়া এ্যাকাডেমিক সমস্যার তো কোন শেষ নাই।
অধ্যক্ষ মরিয়ম বেগম বলেন, “শুরুর সময় সামান্য ফার্নিচার দেয়া হয়েছিল। এরপর আর ১টাকারও কোন বরাদ্ধ পাইনি। সম্পূর্ণ নিজের বেতনের টাকা খরচ করে প্রতিষ্ঠানটি টিকিয়ে রেখেছি।
সকল শিক্ষার্থীদের মাতৃছায়ায় ঢেকে রেখেছি। একজন দাড়োয়ান পর্যন্ত নেই। মাঝে মাঝে নিজে গিয়ে গেইট খুলতে হয়। শিক্ষক সংকট থাকলেও অতিথি শিক্ষক দিয়ে কোনোভাবে পাঠদান কার্যক্রম সচল রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে।
তবে দ্রুত আইবাস চালু ও প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ না হলে প্রতিষ্ঠান পরিচালনা আরও কঠিন হয়ে পড়বে।”
এবিষয়ে নাসিং এন্ড মিডওয়েফারি অধিদপ্তরের অর্থ ও বাজেট বিভাগের উপ-পরিচালক শাহানা ইয়াসমিন বলেন, ‘এবিষয় নিয়ে সারা বাংলাদেশব্যাপী সমস্যায় আছি। বিগত সরকার কোন কাজ করেননি।
নতুন সরকার ক্ষমতায় এসেছে আশা করি সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধান করার চেষ্টা করা হবে। এ অবস্থায় দ্রুত আইবাস চালু, শিক্ষক ও কর্মচারী নিয়োগ এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে শিক্ষা কার্যক্রম স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।
মো.আরিফুল ইসলাম
বাউফল (পটয়াখালী)